শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৩:৫৮
পাকিস্তানে শিয়া নিধন: রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা না কি পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি?

গতকাল জুম্মার নামাজের সময় ইসলামাবাদের তারলাইন এলাকায় শিয়া জুম্মা মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ—এই ঘটনা আর “বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

প্রতিবেদন: মুস্তাক আহমদ 

07-02-2026
গতকাল জুম্মার নামাজের সময় ইসলামাবাদের তারলাইন এলাকায় শিয়া জুম্মা মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ—এই ঘটনা আর “বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী হযরত খাদিজা (আ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত একটি ইমামবাড়ীকে লক্ষ্য করে হামলা মানে কেবল মানুষ হত্যা নয়; এটি ইসলামের পবিত্রতা, ঐতিহ্য ও সহাবস্থানের উপর সরাসরি আঘাত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বহু শিয়া মুসলমান শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—এমন হামলা বারবার কেন ঘটছে?
এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। পাকিস্তানে শিয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। পারাচিনার থেকে কোয়েটা, করাচি থেকে ইসলামাবাদ—একই চিত্র, একই নীরবতা, একই দায় এড়ানোর সংস্কৃতি। প্রতিবারই রাষ্ট্র বলে “তদন্ত হবে”, আর উগ্রবাদীরা আরও সাহস পায়।
এই সহিংসতা কেবল ধর্মীয় উন্মাদনা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক বিভেদকে জীবিত রাখার একটি কৌশল। যখন রাষ্ট্র উগ্র নেটওয়ার্ককে দমন না করে, বরং কখনো নীরব সমর্থন, কখনো কৌশলগত অবহেলা দেখায়—তখন শিয়া-সুন্নী সহাবস্থানের ভিত ভাঙে। সাধারণ সুন্নী মুসলমানও এই রাজনীতির শিকার, কিন্তু লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় শিয়াদের।
আরও ভয়াবহ হলো আন্তর্জাতিক মাত্রা। এই অস্থিতিশীলতা কার লাভে? মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াকে সাম্প্রদায়িক আগুনে জ্বালিয়ে রাখলে লাভবান হয় তারাই, যারা মুসলিম সমাজকে বিভক্ত দেখতে চায়। পাকিস্তানের ভেতরে শিয়া নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব সেই বৈশ্বিক এজেন্ডাকেই শক্তিশালী করে।
এখানে প্রশ্ন রাষ্ট্রের প্রতি—
কেন বারবার একই ধরনের হামলা ঘটছে?
কেন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও হামলা চালাতে পারছে?
কেন শিয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই?
এই নীরবতা, এই ব্যর্থতা, এই দ্বিচারিতাই আসলে অপরাধকে বৈধতা দেয়।
পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ যদি সত্যিই স্থিতিশীল ও সম্মানজনক হতে হয়, তবে শিয়া মুসলমানদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে নয়। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ না হলে, উগ্রবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিন্ন না করলে—এই রক্তপাত থামবে না।
শিয়া হত্যা বন্ধ হোক।
উগ্রবাদ ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার বিচার হোক।
ইসলামের নামে ইসলাম ধ্বংসের এই রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করাই আজ সবচেয়ে বড় ঈমানি দায়িত্ব।
#pakistanisuits 
#মানবিধিকার
#নৈতিকতা 
#মিথ্যার_বিরুদ্ধে_প্রতিবাদ #অপবাদ_বন্ধ_করো #সত্যের_পক্ষে #মিথ্যার_বিরুদ্ধে_সত্য #

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha